ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্লাকআউটে ঢাকা দক্ষিণ সিটির গুরুত্বপূর্ণ এলাকা

৫ আগষ্ট, ২০২০ ১৭:৪৯  
পুলিশ হেডকোয়ার্টারসহ হঠাৎ করেই ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ১০ হাজারের অধিক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। বুধবার নগরীর সিটি কলেজ থেকে কলাবাগান, ল্যাবএইড মোড় এবং বঙ্গবাজার থেকে সিটিকরপোরেশন গেট পর্যন্ত সড়কের ওপর দিয়ে বিস্তৃত ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের তার কেটে দেয়া হয়। ফলে আকস্মিক ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই অঞ্চলে অবস্থিত অফিস, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানসহ বসবাসরত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা। বিপাকে পড়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ সংবাদ সম্মেলনের লাইভ সম্প্রচার কাজ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের থানার সঙ্গে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপরই সংযোগ প্রদানকারী সংশ্লিষ্ট আইএসপি প্রতিষ্ঠানকে পুলিশের পক্ষ থেকে অবিলম্বে সংযোগ চালুর নির্দেশ দেয়া হয়। শেষ খবর পর্যন্ত, পুলিশি প্রহারায় ওই প্রতিষ্ঠানটির নেটওয়ার্ক প্রকৌশলীরা সংযোগ পুনরুদ্ধারে কাজ করলেও সন্ধ্য ৬টা পর্যন্তও ইন্টারনেট চালু করা সম্ভব হয়নি। জানাগেছে, নগরীর সৌন্দবর্ধন নিশ্চিত করণ অভিযানের অংশ হিসেবে দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটির উদ্যোগে এই সংযোগ তারগুলো বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে সেবাদাতাদের আগাম কোনো নোটিশ দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে হাতাশা প্রকাশ করেছেন আইএসএপিবি মহাসচিব ইমদাদুল হক। তিনি বলেন, নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ করে মাঝে মাঝে লাইন কেটে দিলে তো ব্যবসায় করাই দায় হয়ে যাবে। বিষয়টি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের নজরে আনা হলে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই লাইন কাটার আগে সময় দিলে ভালো হতো। বিনা নোটিশে এটা করা উচিত হয়নি। তবে রাস্তার ওপর দিয়ে সংযোগ না নিয়ে এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলিংয়ের পরামর্শ দেন মন্ত্রী। এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাঃ আবু নাছের জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকায় অবৈধ ক্যাবল সংযোগ উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেছে। কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিনে আজ ধানমন্ডির মিরপুর রোডের সিটি কলেজ থেকে ল্যাবএইড হসপিটাল ও জিগাতলা বাস স্ট্যান্ডের আশপাশের এলাকায় এবং নগর ভবনের চারপাশে এই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। কার্যক্রমের প্রথম দিনে কর্পোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মুনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে আজ দুপুর ১২টা হতে ধানমন্ডির ২ থেকে ৪ নম্বর রোড ও জিগাতলা এলাকায় এবং সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইরফান উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে সকাল ১০.৩০টায় বঙ্গ বাজার ট্রাফিক সিগন্যাল হতে নগর ভবন হয়ে গুলিস্তান ও ফুলবাড়িয়া মার্কেট এলাকায় এই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করে। সন্ধ্যা পৌনে ৫টায় উভয় ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রথম দিনের কার্যক্রম শেষ করে। এদিকে ধানমন্ডি এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মুনিরুজ্জামান চলমান এই অবৈধ কার্যক্রম সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, ডিএসসিসি'র মাননীয় মেয়রের নির্দেশনার আলোকে ও 'কেবল টেলিভিশন পরিচালনা আইন,২০০৬' মোতাবেক ডিএসসিসি এলাকায় অবৈধ ক্যাবল সংযোগের বিরুদ্ধে আমাদের কার্যক্রম চলমান থাকবে।  আগামীকাল সকাল ১১.৩০টায় জিগাতলা হতে আমরা পরবর্তী দিনের কার্যক্রম শুরু করব। কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইরফান উদ্দিন আহমেদ জানান, আগামীকাল সকাল ১০.৩০টায় ফুলবাড়িয়া মার্কেট থেকে পরবর্তী দিনের কার্যক্রম শুরু করে পার্শ্ববর্তী বঙ্গ বাজার, আনন্দবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হবে।